Untitled

মিউচুয়াল ফান্ডের সব ধরনের আয় করমুক্ত

শেয়ারবাজারে অনুমোদিত মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডসহ চার ধরনের তহবিলের যেকোনো ধরনের আয় করমুক্ত থাকবে। নতুন আয়কর আইনে এ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড ছাড়াও বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের যেকোনো ধরনের আয় এ সুবিধা পাবে।

মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মিউচুয়াল ফান্ডের যেকোনো ধরনের আয় করমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিল।

কিন্তু গত বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা নির্দেশনার কারণে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রাপ্য লভ্যাংশ বিতরণের সময় কর কেটে রাখছিল। এতে এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। নতুন আয়কর আইনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান হবে।

এ বিষয়ে ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে কোনো মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে যে লভ্যাংশ পাবে, সে ক্ষেত্রে লভ্যাংশ বিতরণকারী কোম্পানি কোনো কর কেটে রাখতে পারবে না। এর ফলে মিউচুয়াল ফান্ডের আয় বাড়বে। তবে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো যখন বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ বিতরণ করবে, তখন ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ও কোম্পানি বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ কর কেটে রাখবে।

শেয়ারবাজারের মিউচুয়াল ফান্ডের আয়ের কয়েকটি খাত রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ আয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিনিয়োগের বিপরীতে লভ্যাংশ আয়, বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কুপন বা সুদ আয়। আর তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে মূলধনি আয় বা ক্যাপিটাল গেইন। এখন থেকে এসব আয় পুরোপুরি করমুক্ত থাকবে বলে নতুন আয়কর আইনে বলা হয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি

মিউচুয়াল ফান্ডের যেকোনো ধরনের আয়কে করমুক্ত রাখা হলেও বাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি গতকালের বাজারে। এদিন লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত ছিল। কারণ, এসব ফান্ডের ইউনিটের দাম পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক বিএসইসির বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে।

ঢাকার বাজারে গতকাল রোববার লেনদেন হওয়া ৩৫৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৬টিরই দাম অপরিবর্তিত ছিল। দাম বেড়েছে মাত্র ৬৪টির আর কমেছে ১১৪টির। এর ফলে এদিন বাজারের সূচক ও লেনদেনও কমেছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের(ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪২ পয়েন্টে। দিন শেষে ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৩ কোটি টাকা কম।

সূত্রঃ প্রথম আলো

Comments are closed.